শুক্রবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮


                                     
 ভালবাসার কষ্টের গল্প-১


আমি বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে, ছোটবেলা বাবা মারা যায়,কিন্তু আমাদের ফ্যামিলি অনেক ভালো হওয়াতে কন প্রবলেম হয়নি, নিজের ভাই নেই কিন্তু আমার চাচার ২ ছেলে আমার আপন ভাইয়ের মতো ওদেরও কোন বোন নেই। বড় ভাইয়া ছোট ভাইয়ার কাছেই আমার যত বায়না। ছোটবেলা থেকে আমি একটু অন্যরকম ছিলাম, আমার জগতটা একদম আলাদা ছিল । যা চাইতাম তাই পাইতাম, কিছু বলতে দেড়ি হত কিন্তু জিনিসটা সামনে পেতে দেড়ি হত না। আম্মু-খালামনি, নানু, ভাইয়াদের চোখের মনি আমি, বড় আম্মু আমার নিজের আম্মুর থেকেও বেশিকিছু, ৪ বছর আগে ভাইয়াদের কাছে বায়না ধরেছিলাম নেট ইউজ করবো ভাইয়ারা না করলো না। প্রথম ইউজ করতাম migg33 নতুন ছিলাম জানতাম না কি করতে হয় একটা ছেলের সাথে অল্প অল্প চ্যাট হত ওর আইডি টা আমি ভীষণ পছন্দ করতাম এরপর রাতদিন চ্যাট শুরু হয় আমাদের, কত গল্প কত দুষ্টামি, ফোন নাম্বার দেয়া নেয়া হল, আমি মেয়ে বলে ফোন দিলাম না ওই প্রথমে ফোন দিলো, ভয়ে রিসিভ করলাম না, এরপর দিতেই থাকলো ফোন, তারপর রিসিভ করলাম, কথা হলো । তারপর সারাদিন কথা হত আমাদের,রাতেও কথা হত। কথা বলতে অসুবিধা হলে mig তো আছেই । মাঝখানে কিছুদিন যোগাযোগ কম হল তখনি বুঝতে পারলাম ওকে ঠিক কতটা মিস করতেছি। বেস্ট ফ্রেন্ড অপুকে বিষয়টা বললাম, ও বলল তুই প্রেমে পরেছিস। তারপর অপু ওই ছেলেকে সব বলল । ওর নাম ছিল সাইফুল, পড়তো MMC তে । তখন ও আমায় ফোন করে বলল আমরা যেন ভালো বন্ধু হিসেবে থাকি,আমি রাজি হয়ে গেলাম কারন ওর সাথে কথা বলতে পারাটাই ছিল আমার জন্য অনেক আনন্দের একটি বিষয় । এভাবে দিন যেতে লাগল,ফ্রেন্ড হিসেবে আর ভাবতে পারতাম না । আমি খুব দুষ্টু ছিলাম, সারাদিন শুধু দুষ্টামি আর লাফালাফি করতাম । আমি আইসক্রিম আর চকলেট খুব পছন্দ করতাম, তুমি বলতে আমাদের জখন দেখা হবে তুমি আমাকে অনেক আইসক্রিম আর চকলেট খাওয়াবে, এভাবে আমাদের দিন যেতে থাকলো। আমি বিবিএ তে ভর্তি হলাম আর ও এম এম সি তে ফাইনাল পরীক্ষা শেষ এক সাবজেক্ট খারাপ হইছে, ওর কষতগুলো শেয়ার করতাম, ওকে পাগলের মতো ভালবাসতাম এখনো পাগলের মতই ভালবাসি, আপনারা বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না ওর জখন কোনও অসুখ হতো বা বিপদে পড়ত সবার আগে আমি বুঝতে পারতাম কিভাবে যেন, পরে বুঝছি মনের মিল থাকলে এমন হয়, একবার ও সিরি থেকে পরে পা ভেঙে ফেললো আমার অস্থির লাগছিলো ফোন দিলাম বলল পায়ে ভেঙে ফেলেছে। আরেকবার পহেলা বৈশাখে ১ টা অনুষ্ঠানে গান গাইতে মঞ্চে উঠলাম কিন্তু কেন যেন অস্থির লাগছিলো তাড়াতাড়ি শেষ করে ওকে ফোন করলাম ওর ফ্রেন্ড বলল ও অসুস্থ...শুনে অনেক কাঁদলাম, ও থামাল আমাকে ওই দিনই আমার খুব জ্বর হয়, ওর ফ্রেন্ডের কাছ থেকে ও শুনেও কোনও খবর দিলো না, খুব রাগ হল, অভিমানে ফোন দিলাম না...ফেসবুকে সারাদিন ওর ছবি দেখতাম, ওর ছবি সেভ করে রাখতাম, ৩ মাস আমাদের কোনও কথা হল না... আমার ভাইয়ারা জেনে গেলো সব, খুব মারল আমাকে, যে ভাইয়ারা কোনদিন ধমকও দেয়নি সেই ভাইয়াদের হাতে মার খেলাম!!! আমার ফোন নিয়ে নিলো, বিয়ে ঠিক হয়ে গেলো..। আসতে আসতে পরিবেশ হালকা হল ৩ মাস পর, ফোন হাতে পেলাম, হাতে পেয়েই ওকে মেসেজ দেই সাথে সাথে উত্তর পেলাম, আমার খবর জানতে চাইল, ওই দিন সারারাত আমাদের কথা হল, ও কিছুতেই মানতে পারলো না, এরপর আরও দুর্বল হয়ে পড়লো আমার প্রতি, খুব অসুস্থ হয়ে পড়ি, আমার অপারেশনের দরকার হয় ও বলল ভয় নেই ও পাশে থাকবে, আমায় ঢাকায় নেয়া হল টেস্ট এর পর টেস্ট চলছিলো, আমি সুযোগ পেলে ওকে ফোন দিতাম, সারারাতই লুকায় লুকায় migg এ চ্যাট করতাম, ও ভালো কবিতা লিখতে পারতো আর আমাকে শোনাতো, আমি বললাম আমি মরেও যেতে পারি ও বলল মরেই যদি যাবে তবে এতো মায়ায় ফেললে কেন? কেঁদে ফেললো, এরপর শুরু হল আমার লাইফের কালো অধ্যায়...। একটা মেয়ে migg এ আমার খবর নিলো ও নাকি আমার সব জানে, আমায় বলল ওরা নাকি জাস্ট ফ্রেন্ড আমি বোকার মতো বিশ্বাস করলাম, অপারেশনের আগের দিন মেয়ে ফোন দিলো বলল ভয়ের কিছু নেই ঠিক হয়ে যাবে সব,সাইফুলকে বললাম মেয়েটা কে সাইফুলও বলল ওরা ফ্রেন্ড আমার অপারেশন হল ওই মেয়ে খালামনির ক্লাছে ফোন দিয়ে খবর নিতো, এরপর আমি সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে আসলাম হঠাৎ সাইফুল বদলে যেতে লাগলো!, আমি ফোন দিলেও ধরত না ধরলেও বলত বিজি, ওই মেয়েকে ফ্রেন্ড ভাবতাম তাই মনের সব কথা ক্লহুলে বলতাম, মাঝে মাঝে খারাপ ব্যাবহার করত, আমার সন্দেহ হতে লাগলো একদিন জিজ্ঞেস করলাম ভালবাসে কিনা সাইফুলকে, ও বলল না, কিন্তু ২ দিন পর বলল সরি ক (আমি) মিথ্যা বলেছি আমি সাইফুলকে ছাড়া বাঁচবো না, ওইদিনই ওই মেয়ে অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খায় অনেক খারাপ অবস্থা দেখে আমি কথা দেই আমি সরে যাবো সাইফুলের লাইফ থেকে, সাইফুলকে বললাম কেন এমন করলো ও তো জানত ওই মেয়ে ওকে ভালবাসে মেয়েটিকে কেন আশা দিয়ে রাখলো, আমার সাথেই বা কেন অভিনয় করলো? ও বলল তোমরা আমায় পাগল বানায় দিচ্ছ, ওই মেয়েকে আমি ভালবাসি না এখন তোমাকেও ভালবাসি না সাইফুলকে বললাম আমি কথা দিছি তাই সরে গেলাম তোমার জীবন থেকে তুমি ওকে ভালোবাসো, ও বলল কাউকে ভালোবাসে না কিন্তু ওরা দুজন সারাদিন ফোনে কথা বলে ফেসবুকে চ্যাট করে, মিগ এ চ্যাট করে। ওই মেয়ে আমায় ফোন দিয়ে খুব বাজে ব্যাবহার করলো আমার সাথে, তবুও আমি মাঝে মাঝে ওকে ফোন দিয়ে সাইফুলের কথা শুনতাম, বলল ওরা খুব ভালো আছে দুজনেই অনেক ভালোবাসে দুজনকে, আমি খুশি ওরা তো সুখে আছে কিন্তু কেন যেন খুব কষ্ট হয়, ওকে মাঝে মাঝে ফোন দিলে রিসিভ করে না, করলেও অনীহা দেখায়। এখনো ভালবাসি আজ ৪ বছর হল ওকে ভালবাসি, ভুলতে পারি না, অপেক্ষায় থাকি জানি ফিরবেনা তবুও আশায় থাকি, এখনো আমি কিছুটা অসুস্থ কিন্তু সাইফুল কোনও খবরও নেয় না... বলতে পারিনা আমার ভুলটা কোথায়? কেন এমন হল আমার সাথে? (ওরা এখনো আমার ফ্রেন্ডলিস্টে আছে তাই নাম চেঞ্জ করে লিখলাম, এখনো প্রতিটি দিন প্রতিটি রাত ওর আশায় বুক বেঁধে রাখি)   

বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

ভালবাসার গল্প-১

                                              ভালবাসার গল্প-১

ভাল লাগলে কমেন্ট করে জানাবেন। কেঁদে ফেললে আবসসই কমেন্ট করবেন...

 রাত ২টা বাজে।আজ পূর্নিমা রাত।ঘুম থেকে ধড়ফড় করে উঠল দৃষা।দেখল ওর চোখ ভর্তি পানি।আর এক ফোটা পানি ওর গাল দিয়ে গড়ে পড়ছে।ওর বুঝতে আর বাকি রইল না যে আজও ফাহাদ কে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছে।তারপর ও ঘুমানোর চেষ্টা করল।কিন্তু ওর আর ঘুম ধরলো না।তখন দৃষা জানালা খুলে চাঁদের দিকে তাকাল।আর ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখল ২.১৫  বাজছে।ওর ফাহাদ এর কথা মনে হল।মনে হল কত না রাত এইভাবে ফাহাদ এর সাথে কথা  বলে কাটিয়েছে।মনে হল ফাহাদ এর ছোট ছোট সেই সব কথা।দৃষা ভাব্তে লাগল ফাহাদ এখনও কি রাত জাগে।দৃষা মনে মনে বলল  এখন  মনে হয়  ফাহাদ ওর GF এর  সাথে  ফোনে এ /mssenger এ কথা বলছে।দৃষা ভাবতে লাগল ফাহাদ এর সাথে তার পরিচয় এর কথা। আজব একটা দিন ছিল। না দৃষা ফাহাদ কে চিনত্ কখনও।কিভাবে যেন হঠাত করেই কাকতালীয় ভাবে পরিচয় হল।কিভাবে  যেন দৃষা ফাহাদ এর বন্ধু হয়ে গেল।ফাহাদ এর সাথে সারাক্ষন সব সময়  কথা বলত।একবার ফাহাদ এর  ফোন নষ্ট হয়ে যায়।ফাহাদ তখন দৃষা সাথে কথা বলার জন্য ওর বন্ধুর ফোন  নিয়েছিল।তার পর কি, ফাহাদ যখন কষ্টে ছিল দৃষা ফাহাদ এর পাশে ছিল ।কখনই দৃষা ফাহাদ কে একা  রাখে নি।কারণ ফাহাদ কে যে সে খুব ভালবাসে।ফাহাদ বিষয় টা জানত।আর একদিন ফাহাদ নিজেই দৃষা কে বলল যে ফাহাদ তাকে খুব ভালবাসে।সে দিন থেকে দৃষা আর ফাহাদ এর ভালবাসার যাত্রা শুরু।কিন্তু এত সুখ কি দৃষা'র ভাগ্যে থাকে।দৃষা এর মনে পড়ল ফাহাদ এর জন্ম দিন টার কথা।কত শত ঝামেলা পার করে দৃষা ফাহাদ এর  জন্যে গিফট বানিয়েছিল নিজের হাত এ।দৃষা ভাবল ফাহাদ এর GFও কি ফাহাদ কে এমন গিফট দেয়?। দৃষার মনে হল সেই দিন টার কথা,ফাহাদ আর সাথে প্রথম কোথাও বেড়াতে যাওয়ার দিন তার কথা।সেই দিন দৃষা কি না রাগ করেছিল ফাহাদ এর ওপর। ফাহাদ এর সাথে অনেক দিন ধরে বেড়াতে যাওয়ার প্লান করেছিল, আর  সকালে ফাহাদ বলে যে আজ তার বন্ধুরা হটাত্‍ করে বেড়াতে যেতে ঠিক করছে আর ওর যেতেই হবে। আজ যাওয়া হবে না।শুনে দৃষা কি না রাগ করল।কিন্তু পরে ফাহাদ ওকে নিয়ে গিয়েছিল বেড়াতে।সেই দিন প্রথম  দৃষা ফাহাদ এর ঘাড়ে মাথা রেখেছিল।দৃষা কত না স্বপ্ন  দেখেছিল,ফাহাদ কে নিয়ে।ওদের ছোট্ট একটা সংসার হবে,সেখানে তাদের ভালবাসাই সংসার টা ভরে যাবে।জীবনের সব সমস্যা সব ঝামেলা সে সহ্য করবে শেষ করবে, ফাহাদ এর হাত টা ধরে।ফাহাদ এর হাত টা ধরে সে তার সারা জীবন চলবা।ফাহাদ এর ভালবাসার জন্য সে সব সহ্য করবে।সারাজীবন ফাহাদ এর পাশে থাকবে।দৃষা ভাবল যখনি ফাহাদ এর দৃষা দরকার ছিল দৃষা ফাহাদ এর পাশে ছিল।সে আজও ফাহাদ এর পাশে থাকতে চায়।কিন্তু  আজ যে ফাহাদ নিজের পাশে দৃষা কে রাখ্তে চায় না।দৃষা ভাবল সে ফাহাদ এর কাছে এমন কি বা চেয়ে ছিল। শুধু চেয়ে ছিল যে ফাহাদ এই অবুঝ দৃষা কে সব্সময়ই যেন বুঝাক্,এই অবুঝ টার পাশে থাক্,এই পাগলী দৃষা টা কে যেন ভালবাসে,দৃষা টা কে যেন সামলায়্,হ্যাঁ দৃষা তো পাগল কিন্তু শুধু ফাহাদ এর জন্যে যে।দৃষা যে সম্পূর্ন ভাবে ফাহাদ এর উপর নির্ভর ছিল।দৃষা শুধুই যে চাইত ফাহাদ যেন দৃষার ভুল হলে বা না বুঝলে তা শুধরায় দেয় যেন বুঝায় দেয়।কিন্তু এটা কি দৃষা অনেক বেশি চাওয়া ছিল।দৃষা ভুল করলে  বা না  বুঝলে  তা শুধরে না দিয়ে ফাহাদ দৃষা কে যে সারাজীবন এর জন্য শাস্তি দিয়ে গেল। ফাহাদ এর বা দোষ কি।এটা মনে হয় দৃষারি প্রাপ্য ছিল।এটাই দৃষা ভাগ্যে ছিল।দৃষা মনে মনে বলল আচ্ছা এখনও কি ফাহাদ এর রাগ আগের মত আছে?ফাহাদ এর GF টা কি ফাহাদ এর রাগ সামলাতে পারে?আচ্ছা ফাহাদ এর Gf টা কেমন হইছে?নিশ্চয় দৃষা থেকে সম্পূর্ন আলাদা।একদম  perfect যেমন টা ফাহাদ চায়্।ফাহাদ এর Gf মনে হয় খুব lucky কারন ফাহাদ তাকে মনে হয় খুব ভালবাসে।আচ্ছা ফাহাদ কি ভাল আছে?।দৃষা চায় না যে ফাহাদ একটুও             কষ্ট পাক।তাই তো সে কোন দিন ফাহাদ কে কষ্ট দেয় নি।অর আজ কেও ফাহাদ কে যে কষ্ট দিবে তাকে সারবে না দৃষা।আজ অনেক অনেক দিন হল ফাহাদ দৃষা কে ছেড়ে চলে গেছে।তাও আজও ফাহাদ এর সব স্মৃতিগুলা দৃষা পরিস্কার মনে আছে।দৃষা ফাহাদ এর সাথে আর যোগাযোগ'ও করে নি কারন ফাহাদ তা চায় না।দৃষা জানে যে ফাহাদ আর ফিরবে না।তাও দৃষা আজও ফাহাদ কে ভালবাসে।কারন দৃষা জানে যে পৃথিবীতে কিছু মানুষ জন্মে             যাদের ভাগ্যে ভালবাসা থাকে না।যাদের ভালবাসা যায় না।যারা শুধু ভালবাসতে জানে।দিতে জানে।পেতে জানে না।আর দৃষা তাদেরই এক জন্।             এইসব কথা আর ফাহাদ এর সেই ছোট ছোট কথা ভাব্তে ভাব্তে দৃষা নিজেকে আবিষ্কার করল চোখ ভর্তি অশ্রু তে।ততক্ষনে পূর্নিমার চাঁদ টা আরও উজ্জ্বল হয়ে গেছিল।দৃষা চাঁদ টার দিকে তাকিয়ে, ফাহাদ এর উদ্দেশ্যে চাঁদ টা কে দৃষা বলল ' তুমি যার সাথেই থাক খুব ভাল থেকো,তোমার খুশিতেই আমি খুশি,কিন্তু কেন জানি আজও আমি তোমায়কেই ভালবাসি।সময় বদলেছে আমি বদলেছি সবার জন্যে কিন্তু আসলে যে আমি             সেখানেই             আছি।আজও তোমার আছি, তোমাকেই খুব ভালবাসি।তোমার পথ চেয়ে বসে আছি''।নিজের অজান্তেই দৃষা দীর্ঘশ্বাস ফেলল,তার চোখ হতে কয়েক ফোটা অশ্রু গাল দিয়ে গরে পরল,আর  চাঁদটার দিকে তাকিয়ে বলল..''I LOVE YOU,I NEED YOU,PLEASE COME BACK IN MY LIFE,I JST LOVE YOU''(সত্য কাহিনী অবলম্বনে)             

বিয়ের যেহেতু বয়স হয়েছে, তাই সিদ্ধান্ত নিলাম বিয়েটা করেই ফেলব। বিয়েতো আর এমনি এমনি করা যাবে না। তার জন্য মেয়ে খুঁজে বের করতে হবে। এই কাজে অত্যন্ত দক্ষ আমার এক দুলাভাই আছেন, যার ওপর পড়ল আমার জন্য বউ খোঁজার ‘গরু দায়িত্ব’। গরু দায়িত্ব এজন্য বললাম, হারানো গরু খুঁজতে যে কষ্ট সহ্য করতে হয় বউ খুঁজে বের করতেও সেরকম কষ্ট সহ্য করতে হয়। 

যেহেতু দুলাভাই আলু-পটোল টাইপের লোক, সে হিসেবে তাকে দিয়েই বউ খুঁজে বের করা যাবে বলে ঘরের ঊর্ধ্বতন সদস্যরা মনে করেন। যথারীতি তিনি এক মেয়ের সন্ধান পেলেন। আমরা পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করলাম যারা মেয়েকে দেখে এবং তার সার্বিক দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বউ হিসেবে সে নমিনেশন পাওয়ার যোগ্য কিনা। 

কমিটির প্রধান হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আমার শ্রদ্ধেয় বড় আপা। একটু বেশি চালাক হিসেবে তিনি আমাদের কাছে পরিচিত। তার চোখ ফসকে নড়বড়ে বউ ঘরে চলে আসবে তা ঘরের কেউ বিশ্বাসই করে না। আমি যেহেতু পাত্র, আমাকেও সাথে যেতে হবে মেয়ে দেখার জন্য। 

আমাকে সুন্দর লাগার জন্য কড়া শেভ করে নিলাম। জিন্সের প্যান্টের সাথে ঝকঝকে লাল একটা শার্ট গায়ে দিয়ে মাঞ্জা মেরে নিলাম। একজোড়া কেডস পরে চোখে সানগ্লাস মাইরা নিলাম। আজ মেয়েটাকে দেখিয়ে দেবো আমি কত ধানে কত চাল। আমি নাকি বেশি কথা বলি তাই ঘটক সাহেব আমাকে একটু কথা কম বলার পরামর্শ দিলেন। 

আমি যেন আগ বাড়িয়ে কিছু না বলি তা তিনি বারবার আমাকে খেয়াল করিয়ে দিলেন। 

মেয়েদের বাড়িতে যখন যাচ্ছিলাম, প্রচণ্ড বৃষ্টি নামল। তাদের ঘরে ঢোকার আগে একটা বড় উঠান পার করতে হয়। বৃষ্টির কারণে উঠান পিছলা হয়ে ছিল। যেই না আমি উঠানটি পার হতে যাব, অমনি ধপাস। 

আমি ধপাস করে পড়ে যাওয়াতে হি হি হি করে হাসির শব্দ কানে এলো। প্যান্টে যতই কাদা লাগুক আমি সানগ্লাসটা ভালো করে নাকের সাথে চেপে ধরলাম। স্টাইল তো ঠিক রাখতে হবে। কী বলেন। 

ঘরে ঢুকেই এমন সিস্টেম করে বসলাম যাতে আমার গায়ে কাদা লাগার দৃশ্য মেয়েটি দেখতে না পায়। আমি মুখে হাসি রাখলাম। হাসলে মেয়েরা নাকি ছেলেদের প্রেমে পড়ে যায়। মেয়েটিকে আমাদের সামনে আনা হলো। চশমার ফাঁক দিয়ে একটু এঙ্গেল করে মেয়েটিকে দেখে নিলাম। দেখতে ভালোই লাগল। মুখের সৌন্দর্য ঠিকমতো আঁচ করতে পারলাম না। মুখে যেভাবে সাদা পাউডার দিয়ে ডিস্টেম্বার করেছে, তাতে করে মুখের প্রকৃত সৌন্দর্য নির্ণয় করা আমার মতো এই হেবলার জন্য দুরূহই হয়ে গেল। ঢুকেই মেয়েটি উচ্চৈঃস্বরে বলে উঠল হাই…। আমি ভাবলাম আমি কোন হাইস্কুল থেকে পাস করেছি মেয়েটি তাই জানতে চাইল। কিন্তু আমার ধারণায় সজোরে ধাক্কা খেলাম যখন মেয়েটি বলে উঠল হাই আঙ্কেল। আঙ্কেল বলাতে আমার মনটা ভেঙে খান খান আট খান হয়ে গেল। কিন্তু আমি কোনোভাবেই হাসি বন্ধ করলাম না। 

আমার সামনে নানা পদের খাবার দেয়া হলো। আমি আবার খাবারকে না বলতে পারি না। তাই সমানে খেতে লাগলাম। আমার খাওয়া দেখে মেয়েটি চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকল। মেয়েটির তাকানো দেখে আমি ভাবলাম আমার খাওয়াতে হয়তো আর্ট আছে, তাই সে চোখ বড় করে তাকাচ্ছে। যতই চোখ বড় করে তাকাক আমি কোনোভাবেই খাওয়া বন্ধ করলাম না। 

দুলাভাই আমাকে ও মেয়েটিকে আলাদা করে কথা বলার জন্য বললেন। 

মেয়েটির সামনাসামনি বসে চোখে চোখ রাখতে আমার লজ্জা লাগছিল। তাই তার চোখের দিকে তাকালাম না। মেয়েটি আমাকে বলল, ‘আমার ফেরেম আছে।’ আমি ভাবলাম আমাকে তার এতই পছন্দ হয়েছে যে, মেয়েটি হয়তো আমার ছবি বাঁধাই করে তার ফ্রেমে রাখার কথা বলছে। তার কথা শুনে আমি হাসতে লাগলাম। কিন্তু একটু পরেই আমার হাসি বন্ধ হয়ে যায় যখন মেয়েটি আমাকে বলল, আমার একটা ছেলের সাথে প্রেম আছে! আপনি এবার আসতে পারেন, আঙ্কেল!

ঠেলাঠেলির ঘর- (হাসির গল্প)

একজনের দুই বউ। কথায় বলে, “ঠেলাঠেলির ঘর, খোদায় রক্ষা কর।” দুই বউকে লইয়া স্বামী বেচারির বড়ই মুশকিল। তারা একে অপরের দোষ ধরিবার জন্য সব সময় সতর্ক হইয়া থাকে। 

এক বউকে কোনো কাজ দিলে সে অপর বউর ঘাড়ে চাপাইতে চায়। স্বামী গিয়াছে হাল বাহিতে মাঠে । দুই বউ ঠেলাঠেলি করিয়া রান্না করে নাই। দুপুরবেলা বাড়ি আসিয়া স্বামী ভাত পায় না। 

বাড়ির ধারে বেগুন ক্ষেতে পানি দেওয়ার কথা । এ বউ বলে, তুমি পানি দাও, ও বউ বলে, তুমি পানি দাও । মাঝখান দিয়া বেগুন ক্ষেতে পানি না দেওয়াতে একদিনের রোদেই চারাগাছগুলি শুকাইয়া যায় । 

অনেক ভাবিয়া চিন্তিয়া স্বামী বউদের যার যার কাজ ভাগ করিয়া দিল, আর একদিন অন্তর এক একজনকে রান্না করিতে বলিল । আজ বড় বউয়ের রান্নার পালা। ছোট তাকে তাকে আছে। 

যেই বড় বউ একটু ওদিকে গিয়াছে, অমনি ছোট বউ আসিয়া তরকারির হাঁড়িতে অনেকখানি নুন ঢালিয়া দিয়া গেল। খাইবার সময় নুনের জন্য কেহই খাইতে পারিল না। বড় বউর বদনাম হইল। 

কিন্তু সে বুঝিতে পারিল ইহা কাহার কাজ । পরদিন ছোট বউয়ের রান্নার পালা। কাল বড় বউর রান্নার বদনাম হইয়াছে। আজ ছোট বউ এমন রান্না করিবে যে, বাড়ির লোক খাইয়া ধন্য ধন্য করিবে। 

কত সুন্দর করিয়া বাটিয়া বাটিয়া, এটা ওটা মশল্লা দিয়া ছোট বউ অতি পরিপাটি করিয়া রান্না করিতেছে। যেই ছোট বউ একটু ওদিকে গিয়াছে, অমনি বড় বউ আসিয়া তরকারির মধ্যে অনেকখানি মরিচের গুড়া ফেলিয়া দিয়া গেল। ঝালের জন্য সেদিন কেহই খাইতে পারিল না। 

বাড়ির সকলে ছোট বউর রান্না লইয়া ছিছি করিতে লাগিল । এমনি আজ তরকারিতে ঝাল বেশি, কাল নুন বেশি, পরশু হলুদ বেশি। স্বামী বেচারা বড়ই মুস্কিলে পড়িল ; কিছুতেই ধরিতে পারে না কে এমন কাজ করে। সেদিন রান্না করিয়াছিল ছোট বউ । তরকারিতে এত নুন হইয়াছে যে, মুখেও দেওয়া যায় না। 

কিন্তু স্বামী একটু চালাকি করিল। সে খাইতে খাইতে বলিল, “আজ যে তরকারিতে মোটেই নুন পড়ে নাই ; এমন নুন ছাড়া তরকারি কি খাওয়া যায় ?” তখন বড় বউ বলিল, “ও তো একেবারেই নুন দিয়াছিল না, আমি আড়ালে থাকিয়া সামান্য একটু ফেলিয়া দিয়াছিলাম। তাই খাইতে পারিলে। নইলে আজ তোমার খাওয়াই হইত না ।” 

তখন স্বামী বড় বউর চুলের মঠি ধরিয়া মারিল এক কিল, “তবেরে শয়তানী! তুই লুকাইয়া তরকারিতে নুন দিয়াছিলি ?” তারপর ছোট বউকেও ধমকাইয়া বলিল, “আমি সমস্তই বুঝিতে পারিয়াছি । তোরা একজন অপর জনের ঘাড়ে দোষ চাপাইতে একে অপরের তরকারিতে নুন ফেলিয়া দিস, ঝাল ফেলিয়া দিস। এরপর যদি কারো রান্নায় নুন-ঝাল বেশি হয়, তবে দুইজনেরই চুলের মুঠি ধরিয়া এইভাবে মারিব।” 

সেই দিন হইতে দুই বউ ভালমতো রান্নাবান্না করিতে লাগিল ।

চরম হাসির গল্প

এক গ্রামে ছিল তিন বোকা। তারা বোকা বলে বোকা, একেবারে বোকার হদ্দ। তাদের বাড়ির লোকজন একদিন তিনজঙ্কেই একসাথে গ্রাম থেকে বের করে দিল। বেচরা বোকা তিনজন গ্রামের বাইরে এসে একটা বড় ছাতিম তগাছের ছায়ায় এসে বসল। তারপর তিনজন মিলে ঠিক করল তারা দূর দেশে চলে যাবে। 

সেইমত তিন বোকা নদী-নালা-মাঠ পেরিয়ে নতুন এক গ্রামে গিয়ে হাজির হল। নতুন গ্রামে এসে তারা একটি বেশ বড় সড় বাড়ি দেখতে পেল। তিন বোকা খোঁজ নিয়ে জানতে পারল সেটা এক মাষ্টারমশাইয়ের বাড়ি। মাষ্টারমশাই ঠিক তখনই স্কুল যাবার জন্য তৈরি হয়ে বেরোতে যাচ্ছিলেন। এমনসময় তিন বোকা তাঁর পায়ে পড়ে পা চেপে ধরল। মাষ্টারমশাই বললেন, ওরে ছাড় ছাড়, স্কুলের দেরি হয়ে যাচ্ছে। বোকা তিনজন তবু পা ছাড়ে না। বলল, মাষ্টারমশাই আমরা ভিন-গাঁ থেকে এসেছি। আমাদের আপনি একটা ব্যবস্থা করে দিন। 

মাষ্টারমশাই বললেন, আচ্ছা আচ্ছা। সব ব্যবস্থা ফিরে এসে হবে। বাড়িতে মা রয়েছে। তোরা তার কাছ থেকে খাবার চেয়ে খেয়ে নিবি। তারপর বাড়িএ কিছু কাজকর্ম সেরে রাখবি। আমি ফিরে এসে তোদের ব্যবস্থা করব। এই বলে তিনি স্কুলের প্পথে হন্ হন্ করে হাঁটতে লাগলেন। 

বোকা তিনজন বুড়িমায়ের কাছে পান্তা ভাত মুড়ি কাঁচা লঙ্কা মেখে পেট ভরে খেয়ে নিল। তারপর বলল, বলুন বুড়িমা কি কাজ করতে হবে? বূড়িমা বলল, যা তোরা নদীতে স্নান সেরে ঘানি থেকে তিন হাঁড়ি সরষের তেল নিয়ে আয়। 

বোকারা সেইমত নদীতে স্নান সেরে তেল আনতে চলল। মাটির ছোট ছোট হাঁড়িতে তেল নিয়ে তারা বাড়ির পথে ফিরছে এমন সময় পথে দেখল একটা প্রকান্ড বট গাছ। সেই বট গাছের ছায়ায় বসে একটু জিরিয়ে নিতে তারা তেলের হাঁড়িগুলো মাটিতে রাখল। তারপর জিরিয়ে টিরিয়ে যেই হাঁড়িগুলোর দিকে তাকিয়েছে অমনি দেখে তিনটি হাঁড়িতেই চোর ঢুকে বসে আছে। আসলে হাঁড়ির মধ্যে ছিল তেল আর ঐ তেলেই তারা নিজেদের ছায়া দেখতে পেয়েছে। নিজেদের ছায়াগুলোকে চোর ভেবে তারা দুম দাম করে লাঠি দিয়ে পিটাতে লাগল। লাঠির ঘায়ে মাটির হাঁড়িতো ভাঙ্গলই সাথে সাথে তেলটাও গড়িয়ে পড়ল। অবশেষে তিন বোকা খালি হাতে বাড়ি ফিরে এল। 

মাষ্টারমশাই সন্ধ্যেবেলায় বাড়িতে ফিরে সব কথা শুনে বলল, কাল তোরা তিনজন বনে গিয়ে তিন বোঝা শুকনো কাঠ নিয়ে আসবি, এটা পারবি তো ? বোকারা অনেকখানি ঘাড় কাত করে খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়ল। 

পরদিন মাষ্টারমশাই স্কুলে চলে গেলে বোকা তিনজনও বনের পথ ধরল। তারপর তিনজন তিনটি বেশ বড়সড় কাঠের বোঝা মাথায় চাপিয়ে বুড়িমার কাছে ফিরে এল। বুড়িমা তখন খোলা পাতে মুড়ি ভাজছিল। গরমে তার মেজাজ ছিল সপ্তমে। আর ঠিক তখনই বোকা তিনজন চিৎকার জুড়ে দিল, কাঠ এনেছি, রাখবো কোথায় ? তিন বোকা একই কাথা বলায় বুড়িমা রেগে-মেগে বলল, কাঠ রাখার জায়গা পাচ্ছিস না ? আমার মাথায় রাখ। এই কথা শেষ হতেই বোকা তিনজন তিনবোঝা কাঠ বুড়িমার মাথায় ফেলে দিল আর তাতেই বুড়ি মারা গেল। 

মাষ্টারমশাই ঘরে ফিরে দেখল অনর্থ হয়ে গেছে। কেন যে তিনি বোকাদের আশ্রয় দিলেন ? তারপর কান্না-কাটি থামিয়ে বোকাদের নির্দেশ দিলেন, যা তোরা মা-কে নিয়ে গিয়ে নদীতে সৎকার করে ফেল। এতে যদি তোদের কিছুটা পাপ কমে। 

বোকারা তখন একটা তালপাতার চাটায়ের মধ্যে বুড়িমার দেহটা গুটিয়ে নদীতে নিয়ে চলল। যেতে যেতে কোনসময় বুড়ির দেহটা চাটাই থেকে বাইরে পড়ে গেছে তারা খেয়ালই করে নি। নদীতে পৌঁছে দেখল বুড়িমা নেই। কোথায় গেল ? বোকা তিনজন তখন ভাবল, বুড়িমা নিশ্চয়ই জ্যান্ত হয়ে কোথাও লুকিয়ে পড়ছে। তাই তারা বুড়িকে ধরে নিয়ে আসতে আবার গ্রামের পথে পা বাড়াল। 

যেতে যেতে তারা অন্য একটি গ্রামে গিয়ে পৌঁছল। সেই গ্রামে একটি বুড়ি ঝাট দিয়ে উঠোন পরিষ্কার করছিল। বোকা তিনজন তাকে দেখতে পেয়ে হৈ হৈ করে এল। তারপর তাকে জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে সৎকার করে দিল। 

সন্ধ্যায় বোকারা মাষ্টারমশাইয়ের কাছে এসে বলল, আজ আমাদের খুব পরিশ্রম গেছে। বুড়িমা তালপাতার চাটাই থেকে বেরিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। আমরা তাকে জোর করে ধরে নিয়ে এসে সৎকার করে দিয়েছি। 

মাষ্টারমশাই বোকাদের কথা শুনে তো একেবারে হাঁ হয়ে গেলেন। অনেক হয়েছে। এরা শুধু বোকা নয়, একেবারে বোকার হদ্দ। এদের কিছুইতেই ঘরে রাখা যাবে না। রাখলেই পদে পদে বিপদ। এই ভেবে তিনি তাদের তাড়িয়ে দিলেন। 

তিন বোকা আবার ভিন-গাঁয়ের পথে হাঁটতে লাগল।

ভাষা আন্দলনের সমস্তো ইতিহাস।

১৯ মার্চ ১৯৪৮-এ ঢাকায় এসে পৌঁছান পাকিস্তানের স্থপতি ও গভর্ণর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্। ভারত বিভাগের পর এটাই ছিল তার প্রথম পূর্ব পাকিস্তান সফর। ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যান) এক গণ-সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ও সেখানে তিনি ভাষণ দেন। তাঁর ভাষণে তিনি ভাষা আন্দোলনকে পাকিস্তানের মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। যদিও তিনি বলেন পূর্ববঙ্গের প্রাদেশিক ভাষা নির্ধারিত হবে প্রদেশের অধিবাসীদের ভাষা অনুযায়ী; কিন্তু দ্ব্যর্থহীন চিত্তে ঘোষণা করেন - "উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, অন্য কোনো ভাষা নয়"। 

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "জনগণের মধ্যে যারা ষড়যন্ত্রকারী রয়েছে, তারা পাকিস্তানের শত্রু এবং তাদের কখনোই ক্ষমা করা হবে না"। জিন্নাহ্‌'র এ বিরূপ মন্তব্যে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে উপস্থিত ছাত্র-জনতার একাংশ। উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা - এ ধরণের একপেশে উক্তিতে আন্দোলনকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে গিয়েও তিনি একই ধরণের বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন এ আন্দোলন সঙ্কীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গীর বহিঃপ্রকাশ এবং অভিযোগ করেন কিছু লোক এর মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে চাইছে। যখন তিনি উর্দুর ব্যাপারে তাঁর অবস্থানের কথা পুনরুল্লেখ করেন, উপস্থিত ছাত্ররা সমস্বরে না, না বলে চিৎকার করে ওঠে।

একই দিনে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের একটি প্রতিনিধিদল জিন্নাহ্‌'র সাথে সাক্ষাৎ করে এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে একটি স্মারকলিপি দেয়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন শামসুল হক, কামরুদ্দিন আহমদ, আবুল কাশেম, তাজউদ্দিন আহমদ, মোহাম্মদ তোয়াহা, আজিজ আহমদ, অলি আহাদ, নঈমুদ্দিন আহমদ, শামসুল আলম এবং নজরুল ইসলাম। কিন্তু জিন্নাহ্ খাজা নাজিমুদ্দিনের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তিকে একপেশে এবং চাপের মুখে সম্পাদিত বলে প্রত্যাখান করেন। অনেক তর্ক-বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্ররা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য জিন্নাহ্'র নিকট স্মারকলিপি পেশ করে।[২৪] ২৮ মার্চ জিন্নাহ্ ঢাকা ত্যাগ করেন এবং সেদিন সন্ধ্যায় রেডিওতে দেয়া ভাষণে তাঁর পূর্বেকার অবস্থানের কথাই পুনর্ব্যক্ত করেন। জিন্নাহ্'র ঢাকা ত্যাগের পর ছাত্রলীগ এবং তমুদ্দন মজলিসের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তমুদ্দন মজলিসের আহ্বায়ক শামসুল আলম তার দায়িত্ব মোহাম্মদ তোয়াহা'র কাছে হস্তান্তর করেন।[২৭] পরবর্তীতে তমুদ্দন মজলিস আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবার জন্য কমিউনিস্টদের দায়ী করে একটি বিবৃতি প্রদান করে এবং পরে তারা আস্তে আস্তে আন্দোলনের পথ থেকে সরে আসে।

লিয়াকত আলি খানের ঢাকা সফরঃ 

১৯৪৮ সালের ১৮ নভেম্বর পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খান পূর্ব পাকিস্তান সফরে আসেন। ২৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে তিনি এক ছাত্রসভায় ভাষণ দেন। ঐ সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের তরফ থেকে প্রদত্ত মানপত্রে বাংলা ভাষার দাবি পুনরায় উত্থাপন করা হয়, কিন্তু তিনি কোনোরূপ মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। ১৭ নভেম্বর তারিখে আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের এক সভায় আজিজ আহমদ, আবুল কাশেম, শেখ মুজিবুর রহমান, কামরুদ্দীন আহমদ, আবদুল মান্নান, তাজউদ্দিন আহমদ প্রমুখ একটি স্মারকলিপি প্রণয়ন করেন এবং সেটি প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খানের কাছে পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রী এক্ষেত্রেও কোনো সাড়া দেননি।

ভাষা সমস্যার প্রস্তাবিত সমাধানঃ 

এর কিছুদিন পরই, পূর্ব বাংলা সরকারের পক্ষ থেকে ভাষা সমস্যার ব্যাপারে একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে মাওলানা আকরাম খানের নেতৃত্বে পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি গঠনকরা হয়, এবং এই বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে বলা হয়।[৩৬] ১৯৫০ সালের ৬ ডিসেম্বর তারিখের মধ্যে কমিটি তাদের প্রতিবেদন তৈরি করে; তবে এটি ১৯৫৮ সালের আগে প্রকাশ করা হয়নি। এখানে ভাষা সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে একটি কার্যকর ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়, যেখানে তারা বাংলাকে আরবি অক্ষরের মাধ্যমে লেখার সুপারিশ করেছিলেন।

১৯৫২: ভাষা আন্দোলনের পুনর্জাগরণঃ 

১৯৫২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারী নওয়াবপুর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) (তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ) ছাত্রদের মিছিল। ভাষা আন্দোলনের মতো আবেগিক বিষয়ের পুনরায় জোরালো হবার পেছনে ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিনের ভাষণ প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন খাজা নাজিমুদ্দিন ২৫ জানুয়ারি ঢাকায় আসেন এবং ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানের এক জনসভায় দীর্ঘ ভাষণ দেন। তিনি মূলত জিন্নাহ্'র কথারই পুনরুক্তি করে বলেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। রেডিওতে সরাসরি সম্প্রচারিত তাঁর ভাষণে তিনি আরো উল্লেখ করেন যে কোনো জাতি দু'টি রাষ্ট্রভাষা নিয়ে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে পারেনি। নাজিমুদ্দিনের বক্তৃতার প্রতিবাদে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ২৯ জানুয়ারি প্রতিবাদ সভা এবং ৩০ জানুয়ারি ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘট পালন করে। সেদিন ছাত্রসহ নেতৃবৃন্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় সমবেত হয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট ও প্রতিবাদ সভা এবং ২১ ফেব্রুয়ারি প্রদেশব্যাপী হরতাল পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে তারা তাদের মিছিল নিয়ে বর্ধমান হাউসের (বর্তমান বাংলা একাডেমী) দিকে অগ্রসর হয়। পরদিন ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার লাইব্রেরি হলে অনুষ্ঠিত সভায় মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ৪০ সদস্যের সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মী পরিষদ গঠিত হয়। সভায় আরবি লিপিতে বাংলা লেখার সরকারি প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করা হয় এবং ৩০ জানুয়ারির সভায় গৃহীত ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন দেয়া হয়। পরিষদ ২১ ফেব্রুয়ারি হরতাল, সমাবেশ ও মিছিলের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে।

পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এসে সমবেত হয়। সমাবেশ থেকে আরবি লিপিতে বাংলা লেখার প্রস্তাবের প্রতিবাদ এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণের দাবি জানানো হয়। ছাত্ররা তাদের সমাবেশ শেষে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

২০ ফেব্রুয়ারি সরকার স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকায় এক মাসের জন্য সভা, সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বিভিন্ন হলে সভা করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ৯৪ নবাবপুর রোডস্থ আওয়ামী মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবুল হাশিমের সভাপতিত্বে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিষদের কিছু সদস্য নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার পক্ষে থাকলেও, সবশেষে ১১-৩ ভোটে[৪০] ১৪৪ ধারা ভঙ্গ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে একই বিষয় নিয়ে পৃথক পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় সলিমুল্লাহ হলে ফকির শাহাবুদ্দীনের সভাপতিত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ফজলুল হক মুসলিম হলে অনুষ্ঠিত সভায় নেতৃত্ব দেন আবদুল মোমিন। শাহাবুদ্দিন আহমদের প্রস্তাব অনুযায়ী রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদকে এই সিদ্ধান্তটি জানিয়ে দেয়ার দায়িত্ব নেন আবদুল মোমিন এবং শামসুল আলম।

২১ ফেব্রুয়ারির ঘটনাঃ 

২১শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২: ১৪৪ ধারা ভঙ্গের প্রশ্নে পুরাতন কলাভবন প্রাঙ্গণে আমতলায় ঐতিহাসিক ছাত্রসভা। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচী অনুযায়ী এ দিন সকাল ৯টা থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এসে জড়ো হয়। তারা ১৪৪ ধারা জারির বিপক্ষে স্লোগান দিতে থাকে এবং পূর্ব বঙ্গ আইন পরিষদের সদস্যদের ভাষা সম্পর্কে সাধারণ জনগণের মতামতকে বিবেচনা করার আহ্বান জানাতে থাকে। পুলিশ অস্ত্র হাতে সভাস্থলের চারদিক ঘিরে রাখে। বিভিন্ন অনুষদের ডীন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ঐসময় উপস্থিত ছিলেন। বেলা সোয়া এগারটার দিকে ছাত্ররা গেটে জড়ো হয়ে প্রতিবন্ধকতা ভেঙে রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে ছাত্রদের সতর্ক করে দেয়।কিছু ছাত্র ঐসময়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের দিকে দৌঁড়ে চলে গেলেও বাদ-বাকিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে পুলিশ দ্বারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং পুলিশের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। উপাচার্য তখন পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ বন্ধ করতে অনুরোধ জানান এবং ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেন। কিন্তু ছাত্ররা ক্যাম্পাস ত্যাগ করার সময় কয়েকজনকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার শুরু করলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ছাত্রকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় ছাত্ররা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে পুনরায় তাদের বিক্ষোভ শুরু করে।

২১শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২: পুরাতন কলাভবন প্রাঙ্গণ, ১৪৪ ধারা ভঙ্গের প্রাক্কালে।

বেলা ২টার দিকে আইন পরিষদের সদস্যরা আইনসভায় যোগ দিতে এলে ছাত্ররা তাদের বাঁধা দেয়। কিন্তু পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে যখন কিছু ছাত্র সিদ্ধান্ত নেয় তারা আইনসভায় গিয়ে তাদের দাবি উত্থাপন করবে। ছাত্ররা ঐ উদ্দেশ্যে আইনসভার দিকে রওনা করলে বেলা ৩টার দিকে পুলিশ দৌঁড়ে এসে ছাত্রাবাসে গুলিবর্ষণ শুরু করে।[২৪] পুলিশের গুলিবর্ষণে আব্দুল জব্বার এবং রফিক উদ্দিন আহমেদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়া আব্দুস সালাম, আবুল বরকতসহ আরও অনেকে সেসময় নিহত হন। ঐদিন অহিউল্লাহ নামের একজন ৮/৯ বছরেরে কিশোরও নিহত হয়।

ছাত্র হত্যার সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে জনগণ ঘটনাস্থলে আসার উদ্যোগ নেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সমস্ত অফিস, দোকানপাট ও পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। ছাত্রদের শুরু করা আন্দোলন সাথে সাথে জনমানুষের আন্দোলনে রূপ নেয়।রেডিও শিল্পীরা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে শিল্পী ধর্মঘট আহ্বান করে এবং রেডিও স্টেশন পূর্বে ধারণকৃত অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে থাকে।

ঐসময় গণপরিষদে অধিবেশন শুরুর প্রস্তুতি চলছিল। পুলিশের গুলির খবর জানতে পেরে মাওলানা তর্কবাগিশসহ বিরোধী দলীয় বেশ কয়েকজন অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে বিক্ষুদ্ধ ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়ান।গণপরিষদে মনোরঞ্জন ধর, বসন্তকুমার দাস, শামসুদ্দিন আহমেদ এবং ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত-সহ ছোট ছয়জন সদস্য মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনকে হাসপাতালে আহত ছাত্রদের দেখতে যাবার জন্যে অনুরোধ করেন এবং শোক প্রদর্শনের লক্ষ্যে অধিবেশন স্থগিত করার কথা বলেন। কোষাগার বিভাগের মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশ, শরফুদ্দিন আহমেদ, সামশুদ্দিন আহমেদ খন্দকার এবং মসলেউদ্দিন আহমেদ এই কার্যক্রমে সমর্থন দিয়েছিলেন। যদিও নুরুল আমিন অন্যান্য নেতাদের অনুরোধ রাখেননি এবং অধিবেশনে বাংলা ভাষার বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশে ইসলাম কিভাবে এসেছে???

ইসলাম এর বিস্তার এই উপমহাদেশে অনেক অনেক কাল আগেই ঘটেছে । ১৩০০ শতাব্দির গোঁড়ার দিকে ইন্ডিয়ার উত্তর অঞ্ছলে মোহাম্মাদ ঘুড়ী এর আগমনের সাথে সাথে এই উপমহাদেশে মুসলিম সম্রাজ্যের বিস্তার ঘটে এর সাথে সাথেই ইসলাম এই অঞ্ছলে প্রবেশ করে। এই উপমহাদেশে ইসলাম সম্প্রসারণ এর মূলে আরবদের আগমন প্রধান ভুমিকা পালন করেছে । তবে ইসলাম ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে এই উপমহাদেশে তথা এই দেশে প্রবেশ করেছে । যেমন – মুসলমান ব্যাবসায়ী, তুর্কীদের জয়, এবং মুসলমান সুফি সাধকদের আগমনের মাধ্যমে। ইরাক থেকে সৈয়দ শাহ্‌ নাসিরুদ্দিন ইসলাম প্রচার এর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আগমন তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য । ব্যাবসায়ীক তথা তৎকালীন জল যোগাযোগ সুবিধার জন্য মূলত চট্রগ্রাম এ ইসলাম এর আবির্ভাব ঘটে। ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দী পর্যন্ত বাংলা পাল বংশের শাসনাধীন ছিল তারপর সেন বংশ বাংলার শাসন ভার গ্রহন করে। সেন সম্রাজ্জ্যের পতনের পর বাংলায় ইসলাম এর বিস্তের পুরোপুরি ভাবে শুরু হয় এবং তা প্রায় ১০০ শত বছর যাবত ব্যাপক ভাবে বিস্তার লাভ করে। 

এই বিস্তার একক ভাবে নয় বরং দলগত বা গোষ্ঠী গত ভাবে ঘটে। আগেই বলা হয়েছে যে সুফি গণ বাংলায় ইসলাম প্রচারে আগ্রণী ভুমিকা পালন করেছেন। ঈখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বখতিয়ার খিলজির আমলে বাংলায় তথা সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলাম ব্যাপক ভাবে সম্প্রসারিত হয়। এর মূলে ছিলেন মুসলমান সাধক গণ। হযরত শাহ্‌ জালাল (রাঃ) তার মামা শেখ কবির এর নির্দেশে বাংলায় আসেন এবং সিলেটের তৎকালীন হিন্দু রাজা গৌর গোবিন্দ কে হারিয়ে সেখানে বসতি স্থাপন করেন। তার এই আগমন এর মাধ্যমে বাংলায় ইসলাম এর বিস্তার বেশ এগিয়ে যায়। বাংলাদেশের প্রধান মুসলমান সম্প্রদায় সুন্নি নামে পরিচিত। 

সুন্নি গণ মূলতঃ হানাফি মাজহাব অনুসরন করেন। তারা তাবলীগ জামায়াত পরিচালনা করেন। বিশ্ব ইস্তেমা তাদেরই পৃষ্টপোষকতায় হয়ে থাকে। এই বিশ্ব ইস্তেমায় প্রায় ৫০ লক্ষ মুসলমান বাংলাদেশ সহ সমস্ত দক্ষিন এশিয়া হতে অংশগ্রহন করেন। বাংলাদেশের অপর একটি উল্লেখযোগ্য মুসলিম সম্প্রদায় হল আহলে হাদিস যারা কোন মাজহাব অনুসরণ না করে সম্পূর্ণ রুপে কুরআন ও হাদিস মেনে চলে। মুলতঃ রাজশাহী এবং খুলনায় এই সম্প্রদায় এর লোকজন বেশী পাওয়া যায়। সমগ্র বাংলাদেশে এই সম্প্রদায় এর লোক সংখ্যা প্রায় ২৭৫ লক্ষ। বাংলাদেশ এ প্রায় ৬০০ আহলে হাদিস মসজিদ এবং ৫ টি আহলে হাদিস মাদ্রাসা আছে। আহলে হাদিসদের উল্লেখযোগ্য তিনটি ধারা খুজে পাওয়া যায়। এগুলো হল মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল গালিব পরিচালিত আহলে হাদিস আন্দোলন বাংলাদেশ (AHAB), জামীয়াতে আহলে হাদিস এবং আহলে হাদিস তাবলীগ-ঈ-ইসলাম। এছাড়াও আরও দুটো সম্প্রদায় এর দেখা বাংলাদেশ এ পাওয়া যায় যথা- আহমেদিয়া এবং শিয়া। ঢাকা সহ সমগ্র বাংলাদেশ এ প্রায় ১০০,০০০ হাজার আহমেদিয়া মুসলিম এর বসবাস। 

যদিও বাংলাদেশে মুসলমানরা সংখ্যা গরিষ্ঠ তথাপিও বাংলাদেশ সংবিধান প্রতিটি মানুষের নিজস্ব ধর্মকে প্রাধান্য দেয়। বিশেষত বাংলাদেশ এর বর্তমান সরকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংবিধান এ কিছু পরিবরতন আনে যা ধর্ম নিরপেক্ষতাকে প্রতিষ্ঠা করে। বাংলাদেশ এ ধর্ম মন্ত্রণালয় সকল ধর্মের পৃষ্টপোষকতা করে থাকে। এই মন্ত্রণালয় মুসলমানদের সকল মসজিদ, ঈদগাহ এবং ধর্মীয় বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান এর সময় সম্পর্কে সকলকে অবগত করে ও সুষ্ঠু ভাবে তা পালনে সহায়তা করে। বাংলাদেশ এ মুসলমানরা সার্বিক ভাবে তাদের ধর্ম পালনের সুবিধা ভোগ করে থাকে। মুসলমানদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার বাক্তিগত অর্থায়নে মক্কাতে হাজ্জ পালনের জন্য কাগজপত্র এবং অন্যান্য ব্যাবস্থা রাষ্ট্রীয় ভাবে করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ এর প্রধান ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দল হচ্ছে জামাত-ই-ইসলামী বাংলাদেশ। শুধু বাংলাদেশেই নয় বরং সমগ্র উপমহাদেশের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় ইসলামিক রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশ এর মুক্তিযুদ্ধে এই দলটির বিতর্কিত ভূমিকা আজও বাঙ্গালীদের মনে প্রশ্নের উদ্রেক করে।

জুতা চোর- হাসির গল্প

কী ব্যাপার করিম সাহেব, মন খারাপ মনে হয়? 
যাকে প্রশ্নটা করলাম তিনি আমাদের পাড়ার শ্রদ্ধাস্পদ একজন ব্যক্তি। অঢেল টাকা-পয়সা থাকা সত্বেও এলাকায় তাকে সবাই ভাল মানুষ বলেই জানে। আমার সাথে তার পরিচয় খুব বেশী দিনের না। দুমাস আগে এ পাড়ায় বাসা ভাড়া নিয়ে আসি। আমার মতো তিনিও মধ্য বয়সের। বয়স জনিত রোগবালাই এড়াবার জন্য প্রতিদিন ভোরে নিয়ম করে হাটতে বেরুই দুজন। এরকম এক প্রাতঃকালীন ভ্রমণেই তার সাথে আমার পরিচয়। 
জ্বি জামাল সহেব। খুব টেনশনে আছি। 

এমন অঢেল টাকাওয়ালা মানুষের কিসের টেনশন? তাই কৌতূহল হল কিছুটা। জিজ্ঞেস করলাম, কি বিষয়ে টেনশন। নেহাৎ ব্যক্তিগত না হলে আমাকে বলতে পারেন। 
না, ব্যক্তিগত কিছু না। 

তবে আমার সাথে ব্যাপারটা শেয়ার করেন। ভাল লাগবে আপনার। শুধু তো শরীর ফিট রাখলেই হবে না। পাশাপাশি মনটাকেও প্রফুল্ল রাখতে হবে। 
হাটতে হাঁটতেই তিনি শুরু করলেন। 

গতবছর শবে-বরাতের রাতের কথা। মিলাদ-মহফিল শেষে মসজিদ থেকে বের হয়েই চিৎকার শুনে পিছনে তাকালাম। মসজিদের দরজার সামনে ছোটখাটো একটা জটলা। কাছে গিয়ে জানলাম এক লোক জুতা চুরি করার সময় ধরা পড়েছে। সবাই খুব মারমুখি। 

একটু পর মেম্বার সাহেব বের হয়ে আসলেন। তিনি দেখি আরো ক্ষিপ্ত। পা থেকে জুতা খুলে চোরটিকে মারতে উদ্যত। হঠাৎ আমার খুব রাগ হল। তাকে আটকালাম। বল্লাম, শবে-বরাতের রাতে আপনারা এটা কি শুরু করলেন। তাদেরকে বুঝাতে চাইলাম, মারধর করে কোন লাভ হয় না। আমরা বরং চোরটিকে বুঝাই। 

নিশ্চয়ই সে অভাবের কারনে এটা করেছে। আমরা সবাই মিলে চাঁদা দিয়ে তাকে এক জোড়া জুতা কিনে দিতে পারি। তবে হয়তোবা সে লজ্জা পেয়ে আর এমন করবে না। আমার কথা শুনে সবাই আবার হেই হেই করে উঠল। তাদের কথা, চোরা না শুনে ধর্মের কাহিনী। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ইমাম সাহেব এক ধাপ এগিয়ে বলে উঠলেন, তার হাত কেটে ফেললেই কেবল তার উপযুক্ত শাস্তি হবে। তবু আমি যখন আমার আগের কথাগুলোর উপর জোর দিলাম, তখন তারা আরো উত্তেজিত হয়ে আমাকেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল। বলল, আপনি চোরটাকে ভাল করে দেখান দেখি। আমরা প্রমাণ চাই। 

আমার কেন জানি না খুব জেদ চেপে গেল। লোকটার অভাবের কথা শুনে কষ্ট হল। ভাবলাম এমন লোককে সাহায্য করলে বিফল হব না। সবার সামনে ঘোষনা দিলাম লোকটি পরদিন আমার বাসায় গেলে তার হাতে আমি একটা রিক্সা কেনার টাকা দেব। লোকটি এক বছর পর আগামী শবে-বরাতের রাতে মসজিদে এসে আমাদের সাথে দেখা করে টাকাটা ফেরত দিবে এবং জানাবে যে সে ভাল হয়ে গেছে। সবাই মুচকি হেসে যে যার পথ ধরল। 

পরদিন লোকটা বাসায় আসলে তার হাতে টাকাগুলা দিয়ে বল্লাম, দেখো, অনেক আশা নিয়ে তোমাকে টাকাগুলা দিচ্ছি। তুমি সবার সামনে আমাকে লজ্জা দিয়ো না। লোকটি আমাকে সালাম করে চলে গেল। 

এইটুক বলে করিম সাহেব কিছুক্ষণ থামলেন। তারপর বল্লেন, আজ শবে বরাতের রাত। হয়তোবা লোকটা আর আসবে না। সবার কাছে খুব ছোট হয়ে যাব তখন। 
ঘটনাটা শুনে হাসি পেল। হাসতে হাসতে বল্লাম, এই মামুলি ব্যাপারটা নিয়ে এতো ভাবছেন! এক বছর আগের ঘটনা। এদ্দিনে সবাই নিশ্চয়ই ভুলে গেছে। 

সবাই ভুলে গেলেও জামাল সাহেব, আমি তো নিজের কাছেই লজ্জা পেয়ে যাব। মানুষ সম্পর্কে আমার ধারণা ভুল প্রমাণিত হবে। 
আপনি কি এখনো আশা করছেন লোকটি আসবে? 
চলেও তো আসতে পারে। 

আমি আবার হাসলাম। আসবে না করিম সাহেব। যুগ পাল্টেছে। এখন মানুষজন আর আগের মতো সহজ সরল না। 
তিনি হতাশ কণ্ঠে বল্লেন, আসবে না, তাই না? 

এই আমাদের করিম সাহেব! তাকে শ্রদ্ধা না করে কি পারা যায়? আমি তাই কোন কথা না বলে হাটতে থাকলাম। 
সেদিন রাতে মসজিদে তার কাছাকাছি বসলাম। তাকে ব্যাপারটা ভুলিয়ে রাখতে হবে। কিন্তু না। মিলাদ শেষে ভরা মজলিসে মেম্বার সাহেবই কথাটা তুললেন। 
কি খবর করিম সাহেব? আপনার জুতা চোর বুঝি এসেছে? 

তার কথায় এতোটাই শ্লেষ মেশানো ছিল যে আমারও খারাপ লাগল। করিম সাহেব কোন উত্তর দিলেন না। মিলাদ শেষ। মেম্বার সাহেবের কথায় উপস্থিত সবার ঘটনাটা মনে পড়ে গেলে যে যার যার মতো করে এটা নিয়ে টিপ্পনী কাটতে কাটতে বের হল। 

আমি করিম সাহেবকে সান্ত্বনা দিয়ে বল্লাম, ব্যাপারটা নিয়ে মন খারাপ করার কিছু নাই। আপনি চেষ্টা করেছেন এটাই সত্যি। আর কেউ তো আপনার মতো করে ভাবে নাই। 

মসজিদের গেটে আসতে না আসতেই দেখি একটা রিক্সা ঘন্টা বাজাতে বাজাতে আমাদের দিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসছে। রিক্সাটি কাছে আসতেই করিম সাহেবের চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। 
তুমি আসছো? তুমি আসছো? রিক্সাওলার দিকে তাকিয়ে তিনি জোরে জোরে চেঁচাতে লাগলেন। 
হ স্যার। আইতে দেরী হইয়া গেল। এই লন আপনের ট্যাকা। রিকশাওয়ালা একটা কাপড়ের পুটলি এগিয়ে দিল। করিম সাহেব হাত বাড়িয়ে পুটলিটা নিলেন। তার মুখে যেন আর কথা সরে না। আমি সহ আশে পাশের লোকজনেরও একই অবস্থা। 

রিক্সাওলা বল্ল, উঠেন স্যার। আইজ আপনেরে লইয়া ঘুরুম। 
করিম সাহেব উঠলেন। আমাকেও উঠতে বল্লেন। 

আমরা দুজন রিক্সায়। রিক্সাওলার চালানোর ঢঙে স্পষ্ট বুঝতে পারছি সে খুব আনন্দে আছে। 

করিম সাহেব আমার ডান হাতটি ধরলেন। বল্লেন, ভাইসাহেব, পৃথিবীটা অনেক সুন্দর, তাই না? তার চোখে তাকিয়ে দেখি তাতে অশ্রু। ওমা! আমার চোখও দেখি ভিজে আসছে!

কমেন্ট করে জানাবেন কেমন হলো? 
আর কোনো কিছু ভুল থাকলে মাফ করে দিবান।

হাসির গল্প- <নাপিত ডাক্তার>

ঠোট্ট একটা শহর। সেখানে সবচাইতে বড় ডাক্তার হইয়া পড়িল এক নাপিত। ছোটখাট অসুখে এটা ও্টা ঔষধ দিয়াই নয়, ফোঁড়া কাটা হইতে আরম্ভ করিয়া রোগীর পেট চিরিয়া রোগীর পেট চিরিয়া পেট হইতে পুঁজ বাহির করিয়া দেওয়া পর্যন্ত বড় বড় কাটাছেঁড়ার কাজও সে অতি সহজেই করিয়া দেয়। এসব কাজ করিতে ডাক্তারেরা কত রকমের যন্ত্র লয়। ছুরি, কাঁচি ভালোমত গরম পানিতে সিদ্ধ করিয়া, পানিতে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করিয়া কত সাবধান হইয়া তাহারা রোগীর গায়ে অস্ত্র ধরে। নাপিত কিন্তু সবের ধার ধারে না। 

সে হাতের তোলায় তাহার ক্ষুর আর নরুণ ভালোমত ঘষিয়া খসাখস বড় বড় কাটাছেঁড়ার কাজ করিয়া যায়। এমন পাকা তাহার হাত: রোগীর পেট চিরিয়া, পেটের মধ্যে হাত দিয়া, সেখানে নাড়ির ভিতরে ফোঁড়াটি হইয়াছে, অতি সহজেই সেখানে ক্ষুর চালাইয়া পুঁজরক্ত বাহির করিয়া আনে। তারপর সাধারন সুঁই সুতা দিয়া ক্ষতস্থান সেলাই করিয়া, আর এবটু হলুদ গুঁড়া মাখাইয়া দেয়। ক্ষতস্থান সারিয়া যায়। 

চোখের পলক ফেলিতে না ফেলিতে সে বড় বড় কাটাছেঁড়ার কাজ করিয়া ফেলে। কাহারও ফোঁড়া হইয়াছে, বেদনায় চিৎকার করিতেছে। দেখি, দেখি বলিয়া নাপিত সেখানে তার ক্ষুর চালাইয়া দিয়া পুঁজরক্ত বাহির করিয়া আনে। রোগী আরাম পাইয়া আনন্দের হাসি হাসে। গলায় মাছের কাঁটা ফুটিয়াছে, দুষ্ট ছেলে খেলিতে খেলিতে মারবেল-গুলি কানের মধ্যে ঢুকাইয়া দিয়াছে, আর খুলিতে পারে না। 

নাপিত নরুনের আগা দিয়া গলার ভিতর হইতে মাছের কাঁটা বাহির করিয়া আনে, কানের ভিতরে নরুনের আগা ঢুকাইয়া দিয়া মারবেল বাহির করিয়া আনে। শুধু কি তাই? পিঠে ফোঁড়া হইলে তাকে বলে কারবঙ্কল। বড় বড় ডাক্তার সেটা কাটিতে হিমশিম খাইয়া যায়। চোখের পলক ফেলিতে ফেলিতে নাপিত সেখানে ক্ষুর চালাইয়া দেয়। এসব কাটাকুটিতে সব রোগীই কি ভাল হয়? কোনটা ভাল হয়– কোনটা পাকিয়া বিষ লাগিয়া ফুলিয়া মরে। তা এরূপ ত ডাক্তারের বেলায়ও হয়। তাদের হাতেই কি সব রোগী ভাল হয়? শহরের সব লোক তাই অসুখে বিসুখে নাপিতকেই ডাকে। 

ডাক্তার ডাকিলে এত টাকা দাও–অত টাকা দাও, তারপর ঔষধের দাম দাও। কত রকমের ঝামেলা। নাপিতের কাছে ভিজিটের কোন দাম-দস্তুর নাই। দুই আনা, চার আনা যার যাহা খুশি দাও। ঔষধ ত তার মুখে মুখে–গরম পানির সেক, হলুদের গুড়োর প্রলেপ, পেটে অসুখ করলে আদা নুন খাও, তাতে না সারিলে জইনের গুঁড়া চিবাও, জ্বর হইলে তুলসীর পাতা, নিউমোনিয়া হইলে আকনের পাতার সেক। এসব ঔষধ বনে জঙ্গলে, পথে ঘাটে যেখানে-সেখানে মেরে। তাই সকলেই নাপিতকে দিয়ে চিকিৎসা করায়। 

শহরের আর আর সব পাশ করা ডাক্তারেরা রোগীর অভাবে ভাতে মরে। নাপিতের মেয়েছেলে দুধে ভাতে খাইয়া নাদুসনুদুস। একদিন সব ডাক্তার একত্রিত হইয়া ভাবিতে বসিল, কি করিয়া তাদের পসার ফিরাইয়া আনা যায়। এক ডাক্তার বলে, “দখে ভাই। আগে আমার বাড়িতে রোজ সকালে শত শত রোগী আসিয়া গড়াগড়ি দিত। টাকা-পয়সা তো দিতই, সেই সঙ্গে রোগ সারিলে কলাটা মূলটা, যে দিনের যে, তাও দিয়া যাইত। এই যে আমের মওসুম। আমার ছেলেমেয়েরা একটা আমও মুখে দিযে দেখিল না! আর নাপিতের বাড়ি দেখ গিয়ে… আর এক ডাক্তার বলে,“আরে ভাই! ছাড়িয়া দাও তোমার আম খাওয়া। 

রোগীপত্তর আসে না। টাকা-পয়সার অভাবে এবার ভাবিয়াছি, ঔষধ মাপার পালা-পাথর, আর বুক দেখার টেথিস্কোপটা বেচিয়া ফেলিব।” অপর ডাক্তার উঠিয়া বলে, “তুমি ত এখনও বেচ নাই। এই দুর্দিনের বাজারে চাউলের যা দাম! ডাক্তারি যন্ত্রপাতি ত কবেই বেচিয়া খাইয়াছি। এবার মাথার উপরে টিনের চালা কয়খানা আছে। তাও বেচিবার লোক খুঁজিতেছি।” ওপাশের ডাক্তার বলে, “ভায়া, হে, এসব দুঃখের কথা আর বলিয়া কি হইবে, দেখিতেছ না? আমাদের সকলের অবস্থাই ওই একই রকম। এখন কি করা যায় তাই ভাবিয়া বাহির কর।” অার এক ডাক্তার বলে, “দেখ ভাই! বিপদে পড়লে বুড়ো লোকের পরামর্শ লইতে হয়। 

শহরের মধ্যে যে বুড়ো ডাক্তার আছেন, বয়স হইয়াছে বলিয়া এখন রোগী দেখেন না। তিনি আমাদের সকলের ওস্তাদ। চল যাই, তাঁহার নিকটে যাইয়া একটা বুদ্ধি চাই; কি করিয়া আমাদের পূর্বের পসার বজায় রাখিতে পারি।” তখন সকলে মিলিয়া সেই বুড়ো ডাক্তারের কাছে যাইয়া উপস্থিত হইল। বুড়ো ডাক্তার আগাগোড়া সমস্ত শুনিয়া বলিলেন, “তোমরা কেহ সেই নাপিতকে আমার নিকট ডাকিয়া আন।” নাপিত আসিলে বুড়ো ডাক্তার তাহাকে বলিলেন, “দেখ এইসব ছোকরা ডাক্তারের কাছে শুনিতে পাইলাম, তোমার কাটাছেঁড়ার হাত পাকা। তুমি একটা কাজ কর। 

আমাদের নিকট হইতে শারীরবিদ্যাটা শিখিয়া লও। তাতে করিয়া তোমার ডাক্তারি বিদ্যাটা আরও পাকিবে।” নাপিত বলিল, “এ অতি উত্তম কথা। আমি ত মুখ্যুসুখ্যু মানুষ। আপনারা যদি কিছু শিখাইয়া দেন বড়ই উপকার হইবে।” তখন সকল ডাক্তার মিলিয়া নাপিতকে শারীরবিদ্যা মিখাইতে লাগিল। শরীরের এখান দিয়া এই নাড়ি প্রবাহিত হয়। এইটা শিরা, এইটা উপশিরা। এইখানে ধমনী। এইখানে লিভার। হাতের এইখানে এই শিরা। কাটিলে রক্ত বন্ধ হইবে না, লোক মরিয়া যাইবে। এইখানে হৃৎপিন্ড। এইভাবে সত আট দিন ধরিয়া সব ডাক্তার মিলিয়া নাপিতকে শারীরবিদ্যা শিখাইতে লাগিল।নাপিত বুদ্ধিমান লোক। 

ডাক্তাদের যাহা শিখিতে মাসের পর মাস লাগিয়াছিল, সে তাহা সাত দিনে শিখিয়া ফেলিল। শুধু কি শারীরবিদ্যা? ডাক্তারেরা তাহাকে নানারকম অসুখের জীবাণুর কথাও বলিয়া দিল। ডাক্তারি যন্ত্রপাতি ভালোভঅবে পরিষ্কার করিয়া না লইলে রোগীর কি কি রোগ হইতে পারে তাহাও বুঝাইয়া দিল। তারপর সেই বুড়ো ডাক্তারের পরামর্শমতো সকল ডাক্তার একটি রোগী আনিয়া নাপিতের সামনে খাড়া করিল। তাহার সামান্য ফোঁড়া হইয়াছিল। তাহারা তাকে সেই ফোঁড়া কাটিতে বলিল। নাপিত কতরকম করিয়া হাতধোয়। কত ঔষধ গোলাইয়া তার ক্ষুর-নরুন পরিষ্কার করে, কিন্তু তার মনের খুঁতখূঁতি যায় না। 

হয়তো তার হাত ভালোভাবে পরিষ্কার হয় নাই। হয়তো অস্ত্রে কোন রোগের জীবাণু লাগিয়া আছে। আবার নতুন করিয়া অস্ত্র সাফ করিয়া নাপিত সেই লোকটির ফোঁড়া কাটিতে আরম্ভ করিল, কিন্তু তার হাত যে আজ কাঁপিয়া ওঠে। শরীরের এইখানে এই শিরা এইখানে উপশিরা। ওইখান দিয়ে ক্ষুর চালাইলে রোগী মারা যাইবে; নাপিত ক্ষুর এভাবে ধরে, ওভাবে ধরে, কিন্তু ফোঁড়া কাটিতে কিছুতেই সাহস পায় না। এতদিন অজানাতে রোগীর গায়ের যেখানে সেখানে ক্ষুর চালাইয়াছে। কিন্তু সমস্ত জানিয়া শুনিয়া সে আজ রোগীর গায়ে ক্ষুর চালাইতে সাহস পায় না। ভয়ে তাহার হাত হইতে অস্ত্র খসিয়া পড়িয়া গেল। নাপিত আর তাহার ক্ষুর চালাইতে পারিল না। সেই হইতে নাপিতের পসার বন্ধ হইল। লোকেরা আবার ডাক্তার ডাকিতে আরম্ভ করিল।

গল্পটা কেমন হয়েছে comment করে জানাবেন।
আমি নতুন blogger. তাই আমার কোনো কিছু ভুল হয়ে থাকলে মাফ করে দিবেন।

মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

হাসির গল্প- <গাবলু মামা>

দুপুরে মা বললেন, “যা তো গাবলু, সামনের মুদির দোকান থেকে দুই কেজি আলু নিয়ে আয়।” 
গাবলুমামা কঁকিয়ে উঠল, “আচ্ছা আপা, বাবা-মা কি আর নাম খুঁজে পেল না। গাবলু একটা নাম হল? আমি এবার আমার নাম পাল্টাব।” 
মা হা করে তাকিয়ে রইল। 

মামার দৃঢ় ধারণা এই নামের কারণেই তার চাকরি-বাকরি হচ্ছে না। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললেন নাম পাল্টানোর। আমাকে দেখে সবাইকে শুনিয়ে বললেন, “হ্যারে তিতলি, গালিব খান নামটা শুনতে বেশ লাগে, না?” 
আমি কোনো ঝামেলায় না গিয়ে সায় দেই। 
বিকেলে মন্টিটা হাঁপাতে হাঁপাতে এসে বলল, “গাবলুমামা, জান, আজ স্কুল ম্যাচে আমি দুটো গোল দিয়েছি।” 

মামা বিছানা থেকে তড়াক করে লাফিয়ে উঠে বলল, “দেখ মন্টি, আমি এখন আর তোদের গাবলুমামা নই। আমি এখন গালিব খান।” 

রাতে খাবারের টেবিলে সবার সামনে কথাটা উঠতেই আপু ফিক করে হেসে দিল। মামা একটা গাট্টা মারতেই ও চুপ হয়ে গেল। 

বাবা গম্ভীর হয়ে বললেন, “মুখে বললে তো হবে না, গাবলু। এফিডেবিট করে আইনমাফিক করতে হবে। বাপ-দাদার নাম পাল্টানো অত সহজ নয়।” 
“তাই না হয় করা হোক।” 
বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সায় দিল ভাইয়া। মামার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। মামা-ভাগ্নে বলে কথা।
বাবা আর কথা বাড়ালেন না। 

পরদিন বিকেলে কলিংবেল বাজতেই কাজের ছেলে পল্টু দৌড়ে গেল। 
মা চেঁচিয়ে বললেন, “কে এসেছে রে পল্টু?” 
পল্টুর চটপট উত্তর, “গাবলুমামা।” 

ঘরে ঢুকেই মামা পল্টুকে এমন ধমক লাগলেন, “খবরদার আর কখনও গাবলুমামা বলবি না। আমি এখন গালিব খান।” 
বেচারা পল্টু পালিয়ে বাঁচল। 
ঠিক দুসপ্তাহ পরের ঘটনা। রাতে খাবার টেবিলে বসে সবাই খাচ্ছি। মা, মামার দিকে তাকিয়ে মনখারাপ করে বললেন, “তোর আর চাকরি হল না।” 

বাবা বললেল, গাব…. সরি, মিস্টার গালিব তোমার ওই সিম্পসন কোম্পানির চাকরির কী হল? ওটা তো হওয়ার কথা।” 
মা খাওয়া বন্ধ করে বললেন, “এখনও তো কোনো চিঠিপত্তর এল না।” 

চিঠির কথা শুনেই রান্নাঘর থেকে পল্টু বেরিয়ে এসে জানাল, “একটা চিঠি এসেছিল মামার নামে।” পল্টু হাসি হাসি মুখে বলল, লোকটা কইল, এখানে গাবলু খান নাম কেউ থাকেন? আমি সোজা না জবাব দিয়া কইলাম, আমারে আপনি মার খাওয়াইতে চান?” 

মামা তিন লাফে পল্টুর কাছে গিয়ে বললেন, “হায়! হায়! কী করেছিস, নিশ্চয়ই ওটা আমার অ্যাপয়ন্টমেন্ট লেটার ছিল। এখন কী হবে!” বলেই মামা মাথা চাপড়াতে লাগলেন। 
মা এইবার রেগে গিয়ে বললেন, “দেখলি বাবা-মার অমর্যাদা করলে কী ফল হয়?

হাসির গোল্প- <ক্যাডার মফিজ>

এক গ্লাস আদা-জল নিয়ে সুয্যিমামা জাগার আগেই মফিজ পড়তে বসেছে। বিসিএস ক্যাডার হবে-এ তার আজন্ম স্বপ্ন। এলাকায় অলরেডি তার নামই হয়ে গেছে ‘ক্যাডার মফিজ’। প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় অকৃতকার্যতায় হ্যাট্রিক করার পর চতুর্থবারে সে পাশ করেছে। সামনে লিখিত পরীক্ষা। সেজন্য আদা-জল খেয়ে পড়ালেখা শুরু! 

পরীক্ষার ভুবনে প্রেম গদ্যময়। তাই মফিজ তার প্রেমকে ফ্রেমবন্দী করে, হৃদয়ে পাথর বেঁধে লেখাপড়ায় মন দিয়েছে। কত্ত কিছু জানার আছে! ‘মুক্তবাজার’ যে মুক্তোর বাজার নয়; আমাদের দেশের ‘গোল্ডেন ভিলেজ’ যে গোল্ডের ভিলেজ নয়, গাঁজা উৎপাদনের গ্রাম; ‘এগপ্ল্যান্ট’ যে ডিমের গাছ নয়-এসব তো মফিজ আগে জানত না। তবে মাঝেমাঝে পড়ার প্রেশারে অভিমানী সুরে সে গেয়ে ওঠে, ‘এত পড়া সইব কেমন করে?’ তখন ভাবে, প্রশ্নপত্র ‘ফাঁস’ না হয়ে যদি ‘গুম’ হওয়ার রীতি থাকত, তবে কতই না ভালো হতো! দাগী আসামিরাও কারাগার থেকে মুক্তি পায়; অথচ পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা থেকে মুক্তি নেই! 

পরীক্ষার হলে গেলেই মফিজের মনে হয় কেউ যেন তার ব্রেন ফরম্যাট করে ফেলেছে। সেসময় সে কিছুই মনে করতে পারে না। একদিকে মাথা হালকা হয়, আর অন্যদিকে তলপেট ভারী হয়ে আসে! আজ প্রথম লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেখে বেচারা আরও একবার টের পেল, ‘পারা আর না পারার মধ্যে যোজন যোজন দূর’! 

এদিকে পরীক্ষা শুরুর ঘণ্টা পড়তেই মফিজকে প্রকৃতি ডাকাডাকি শুরু করেছে। তবে বেচারা আজ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ; শারীরিক সমস্যা সে শারীরিকভাবেই মোকাবিলা করবে। কিন্তু শেষমেশ পেরে উঠল না। দৌড়াল টয়লেটের দিকে। এই পরীক্ষাকেন্দ্রে একটিমাত্র টয়লেট এবং সেই টয়লেটের রয়েছে সুন্দর একটি নাম: ‘প্রসাধনী’। সপ্তাহব্যাপী চলা লিখিত পরীক্ষার মোট সময়ের এক-তৃতীয়াংশই মফিজ এই প্রসাধনী কক্ষে কাটাল! 

ঘটনা ঘটল শেষ পরীক্ষার দিন। বলা প্রয়োজন, ইতিমধ্যে মফিজের প্রেমিকা তার বাবার কাছে ধরা খেয়েছে। ভদ্রলোক মফিজের বৃত্তান্ত নিয়ে একদিন মফিজদের এলাকায় চলে এলেন। এক কিশোরকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘অ্যাই ছেলে, মফিজ নামে কেউ থাকে এখানে?’ ছেলেটি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জানাল, ‘জি আঙ্কেল, থাকেন। ক্যাডার মফিজ ভাইকে এই এলাকার সবাই চেনে।’ 
‘ক্যাডার!’ 
‘জি। উনি একজন সম্মানিত ক্যাডার। ওই তো উনি আসছেন।’ 

মফিজ শেষ লিখিত পরীক্ষা দিয়ে ফিরছিল। আগেও দূর থেকে দেখেছে বলে হবু শ্বশুরকে চিনতে তার কষ্ট হলো না। বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে ফিরছে-এটা গর্বের সঙ্গে বলার জন্যই ভাবাবেগে সে প্রেমিকার বাবার দিকে দৌড়ানো শুরু করল। এলাকার ক্যাডার তার দিকে ছুটে আসছে দেখে ভদ্রলোকও হঠাৎ হতচকিত হয়ে উল্টো ঘুরে দৌড় দিলেন। পথের মানুষজন চেয়ে চেয়ে দেখল, ‘নীল আকাশের নিচে দুজন রাস্তায় চলেছে দৌড়িয়ে’! 

এই ‘ক্যাডার’ বিষয়ক ভুল বোঝাবুঝি নিরসনে সময় লেগে গেল প্রায় এক মাস। কিছুদিন হলো মফিজের সঙ্গে তার হবু শ্বশুরের সম্পর্কোন্নয়ন হয়েছে। তিনিও নাকি বিসিএস ক্যাডার হতে চেয়েছিলেন। পড়াশোনার প্রতি ছেলের আগ্রহ দেখে তিনি বেশ খুশি। তবে মফিজের সিক্সথ সেন্স বলছে, এবারও সে ক্যাডার হতে পারবে না। তাই এরপরের বিসিএস পরীক্ষার জন্য লবঙ্গ-জল খেয়ে সে পড়াশুনায় লেগেছে। মফিজের জন্য শুভকামনা।

হাসির গল্প- <হায়রে ঘুম>

হঠাত্‍ করে অনিক সাহেবের নিজের ছোটকালের কথা মনে পড়ে হাসি পাচ্ছে।যখন তিনি ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়তেন তখন তো একবার স্কুলের টয়লেটে ঘুমিয়ে পড়েছিল।বাবা-মা,শিক্ষক-শিক্ষিকা সবাইতো তাকে খুঁজতে খুঁজতে হতাশ। 

শেষ-মেষ রাতে সবাই এসে স্কুলে খোঁজা শুরু করলেন আর টয়লটে ঘুমন্ত ছোট্ট অনিক সাহেবকে পেল।মজার ব্যাপার হচ্ছে অনিক সাহেবের এতই ঘুম ছিল যে,সে টেরই পায়নি কখন রাত হল। 

অনিক সাহেব বড় হলেন,বিয়ে করলেন,বাবা হলেন,অন্য মেয়ের শ্বশুর হলেন কিন্তু তার গভীর ঘুম সেই আগের জায়গাতেই রয়ে গেল।ছোট্ট মুচকী হাসির সাথে এইসব ভাবতে ভাবতে তিনি আবার গভীর ঘুমে চলে গেলেন। . . বাসায় থাকেন অনিক সাহেব,তার ছেলে ও ছেলের বৌ।অনিক সাহেবের ঘুম কেউই পছন্দ করে না শুধু মাত্র তার স্ত্রী ছাড়া। 

কিন্তু সেই মানুষটিও যে এখন আর দুনিয়াতে নেই। অনিক সাহেবের ছেলে সরকারী চাকরী করে।আর ছেলের বৌ বেসরকারী।অনিক সাহেব ও একটা বেসরকারী কোম্পানীতে চাকরী করতেন কিন্তু ঘুমের কারণে সেই চাকরীটা ও যায়।তার চাকরী যাওয়ার ব্যাপারটা ও মজার। সেদিন তিনি ভালোভাবেই অফিসে গিয়েছিলেন।আর ঐ দিন অফিসে বিদেশী কোম্পানী থেকে কিছু ইনভেস্টার এসেছিল। 

অনিক সাহেবের বস তাদের সাথে একটি কনফারেন্স করার জন্য ঠিক করলেন।অনিক সাহেব যদি সেই কনফারেন্স টেবিলে নাক ডেকে ঘুমান তাহলে তো অনিক সাহেবকে চাকরীতে রাখাটা তার বসের জন্য খুবই বিপত্তিজনক হয়ে যাবে।তাই অনিক সাহেবের ঘুমের কথা চিন্তা করে তাকে চাকরী থেকেই বের করে দিলেন।বস তাকে শেষ কথা বলেছিলেন “অনিক সাহেব বাসায় গিয়ে আরামে ঘুমান টেবিলে ঘুমিয়ে কষ্ট করার কোন প্রয়োজন নেই”। . . 

ছেলের বউয়ের মুখে এসব কথা শুনতে অনিক সাহেবের অসহ্য লাগছে।কিন্তু কথা তো শুনতেই হবে।কারণ আজ ও অনিক সাহেবের ঘুমের জন্য আরেকটা সমস্যা বেঁধে যায়।সমস্যাটা হল যে অনিক সাহেব বাথরুমের কল বন্ধ না করেই ঘুমিয়ে পড়েন।আর ছেলের বউ ঘরে এসে দেখে যে অনিক সাহেব খাঁটে নিরাপদে ঠিকই ঘুমাচ্ছেন কিন্তু ঘরের সকল জিনিসপত্র ১১নং বিপদ সংকেতের কবলে। 

অনিক সাহেব ছেলের বউয়ের কথা শুনতে শুনতে তার চোখটা লেগে আসে।কিন্তু তিনি আবার সজাগ হয়ে যান কারণ এখন ঘুমালে যে অনিক সাহেবের কপালে মঙ্গল বারে ও শনি এসে পড়বে।অনিক ভাবে চোখ বন্ধ করে ভাবে যে তিনি কুমিল্লা তার গ্রামের বাড়ি চলে যাবেন। . . কুমিল্লার বাসে অনিক সাহেব।কুমিল্লা যে তিনি নামতে পারবেন না সে তো জানা কথা।। 

হঠাত্‍ করে তার চোখ খুলল দেখল সামনে হেলপার,ড্রাইভার ও দুই তিনজন দাড়িয়ে আছে।অনিক সাহেব প্রশ্ন করলো “এটা কোন জায়গা?” একজন বললো “কক্সবাজার” হেলপার বললো “আংকেলের না কুমিল্লা নামার কথা ছিল?” 

অনিক সাহেব হতাশার সাথে প্রশ্ন করলেন “এখন কী হবে?” ড্রাইভার রহস্যময় হাসীর সাথে বললো “কিছুই হবে না শুধুমাত্র আমরা আপনাকে অপহরণ করে কিছু টাকা উপার্জন করবো,হা হা” এইবার অনিক সাহেবের আর ঘুম আসল না কিন্তু অপহরণকারীরা একটা ভারী বস্তু দিয়ে অনিক সাহেবের মাথায় বারী দিয়ে ঘুম পড়িয়ে দিলেন। . . 

পরদিন ভোরে চোখ খোলার পর অনিক সাহেব তার অবস্থান আবিষ্কার করলেন একটা টুলের উপর হাত পাঁ বাধা।অপহরণকারীরা তাকে এসে বলল “কিরে বুইড়া সারাদিন খালি ঘুমাইবি না তোর বাড়ির ফোন টোনের নাম্বারটা দিবি?” অনিক সাহেব বললেন “ভাই আমার হাত পা আগে খুলেন সব কইতাছি আর ভয় পায়েন না পালামু না” তারা অনিক সাহেবের হাত পা খুলে দিলো।আর অনিক সাহেবের বাসার ফোন নাম্বার চাইলো কিন্তু অনিক সাহেব ভুল নাম্বার দিলো কারণ তার নিজের ও বাসায় যাওয়ার কোন ইচ্ছা নাই। 

আর ও কিছু ভুল নাম্বারে অযথা টাকা খরচ করার পর তারা অতিষ্ট হয়ে গেল।কিন্তু অনিক সাহেবের বয়স বেশী বলে মারল না।তারা তখন গাড়ী চালাতে যাবে তাই অনিক সাহেবকে বলল “রাতে এসে যেন তারা নাম্বার পায়” অনিক সাহেবের উপর চোখ রাখার জন্য একজনকে রেখে গেল।সে ও বাইরে দিয়ে গেট আটকিয়ে চলে গেল।একঘুমের পর দুপুরে গেট দিয়ে সেই লোক খাবার হাতে প্রবেশ করলো।তারা অনিক সাহেবকে যথেষ্ট সম্মান করে তাই ভালো খাবারই নিয়ে এলো। 

অনিক সাহেব মনে মনে ভাবলেন এতো ভাল খাবার তো তিনি বাসায় ও পান না।রাতে ও ঠিক একই কাহিনী ঘটল আর খাওয়ার পর তিনি আরামের ঘুম দিল।হেলপার ও ড্রাইভার রাতে এসে অনিক সাহেবকে ডাক দিলো কিন্তু তার গভীর ঘুমের সামনে তারা ও পরাজিত হলো এবং ঘুমিয়ে পড়লো।ভোরে অনিক সাহেব তার ছেলের নাম্বার দিলো কিন্তু সেটা বন্ধ ছিলো।আজ ও তারা চলে গেল।আগের দিনের মতো আজকের দিনটা ও অনিক সাহেবের অনেক ভালো কাটলো।রাতে তারা এসে বলল “এই বুইড়ারে দিয়া কোন কাম অইবো না দুইদিনে কত টাকা নষ্ট করাইয়া লাইছে”। 

অবশেষে অপহরণকারীরা ও তার ছেলের বউ আর ছেলের মতো অনিক সাহেবের উপর অতিষ্ট হয়ে পড়লো।তারা ঠিক করলো অনিক সাহেবকে মেরে ফেলবে আর মায়া করা যাবে না।কে যেন হাতে ছুঁড়ি নিয়ে অনিক সাহেবের সামনে আসলো।অনিক সাহেব বললো “আমাকে মেরো না দয়া করে ছেড়ে দাও” :আব্বা আবার আপনার কী হইলো? :ছেড়ে দাও আমাকে ছেড়ে দাও। :আব্বা আপনে ও আজিব!পুরা ঘর পানিতে ভাসাইয়া ফালাইছেন।দুই তিনটা বকা কিনা দিছি সেইটা শুনতে গিয়া ও ঘুমাইয়া পড়লেন।আর আমি আপনারে মারমু কে? চোখ খোলার পর দেখলেন তার ছেলের বউ ছুঁড়ি হাতে দাড়িয়ে আছে।সম্ভবত কিছু কাটছিলো। 

আস্তে আস্তে অনিক সাহেব বুঝলেন যে সবই স্বপ্ন ছিলো।তিনি দীর্ঘশ্বাসের সাথে বলল “বাঁচা গেল” আবার তার ছেলের বউ বলল “ভবিষ্যতে এইরকম কাজ করলে আর বাঁচবেন না,যান বাজারে যান” অনিক সাহেব বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়ে চলে গেলেন। :এই সেই যে বাবাকে বাজারে পাঠালাম আর তো এলো না? :চলো খুঁজে আসি। অনিক সাহেবের ছেলে আর ছেলের বউ চাঁয়ের দোকানে ঘুমন্ত অনিক সাহেবকে খুঁজে বের করলো।আর দীর্ঘশ্বাসের সাথে দুজনের মুখে একই কথা আসলো “হায়রে ঘুম!”

শেখ মজিব হত্তার কথা

স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট হত্যা করা হয়। এ ঘটনার দীর্ঘ ২১ বছর পর দায়ের করা হয় মামলা। ১৯৯৮ সালে বিচারিক আদালত ১৫ আসামির ফাঁসির রায় দেন। হাইকোর্টের বিচার শেষে আজ আপিল বিভাগে এই মামলার চূড়ান্ত রায় দেয়া হবে।
উল্লেখযোগ্য ঘটনাক্রম: ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।
২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৫: এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে খন্দকার মোশতাক সরকার ইমডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশ জারি করে।
১২ আগস্ট, ১৯৯৬: বিশেষ ক্ষমতা আইনে কর্নেল ফারুকসহ তিনজনকে গ্রেফতার।
২ অক্টোবর, ১৯৯৬: হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রিসেপসনিস্ট কাম রেসিডেন্ট পিএ আ ফ ম মুহিতুল ইসলাম ধানমন্ডি থানায় ২৪ আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
১২ নভেম্বর, ১৯৯৬: আওয়ামী লীগ সরকার সংসদে দায়মুক্তি অধ্যাদেশটি বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ উন্মুক্ত করে।
১৫ জানুয়ারি, ১৯৯৭: তদন্ত শেষে পুলিশ ২৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
৩ ফেব্র“য়ারি. ১৯৯৭: পলাতক আসামিদের নামে গেজেট নোটিস জারি হয়।
১ মার্চ, ১৯৯৭: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে বিশেষ এজলাস গঠন করে এই মামলার বিচারক করা হয় কাজী গোলাম রসুলকে। রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি হন সিরাজুল হক।
১২ মার্চ, ১৯৯৭: চার আসামি মারা যাওয়ায় ২০ জনের বিরুদ্ধে ঢাকায় দায়রা জজ আদালতে বিচার শুরু।
৭ এপ্রিল, ১৯৯৭: একই আদালত ২০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
৮ নভেম্বর, ১৯৯৮: দেড়শ কার্যদিবস শুনানির পর ঢাকার দায়রা জজ গোলাম রসুল ২০ আসামির মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। এ দিনই ব্যাংকক থেকে আসামি বজলুল হুদাকে দেশে ফেরত আনা হয়।
ওই রায়ের পর এর বিরুদ্ধে কারাবন্দি চার আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর বজলুল হুদা, বরখাস্ত লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ হাইকোর্টে আপিল করেন।
৩০ মার্চ, ২০০০: ডেথ রেফারেন্স ও আপিল হাইকোর্টের শুনানির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
১০ এপ্রিল, ২০০০: এই মামলা শুনতে এক বেঞ্চের বিব্রতবোধ।
২৪ এপ্রিল, ২০০০: অপর এক বেঞ্চের বিব্রতবোধ।
২৮ জুন, ২০০০: হাইকোর্টের বিচারপতিরা কয়েক দফা বিব্রত হওয়ার পর ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু।
১৪ ডিসেম্বর, ২০০০: ৬৩ কার্যদিবস শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ মামলায় বিভক্ত রায় দেন। বিচারপতি মো. রুহুল আমিন ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অপর বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ১৫ আসামির ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন।
১২ ফেব্র“য়ারি, ২০০১: হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চের বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিমের আদালতে মামলার শুনানি শুরু।
৩০ এপ্রিল, ২০০১: তৃতীয় বেঞ্চ ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে তিনজনকে খালাস দেন। চূড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা ১২ আসামির মধ্যে পরে ওই বছরই কারাবন্দি চার আসামি আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন।
১৩ র্মাচ, ২০০৭: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি ল্যান্সার একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার হন।
১৮ জুন, ২০০৭: ল্যান্সার এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
২৪ জুন, ২০০৮: ল্যান্সার মহিউদ্দিন জেল আপিল করেন।
২ আগস্ট, ২০০৭: হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের দায়ের করা লিভ টু আপিলের ওপর শুনানির জন্য বেঞ্চ গঠন করা হয়।
৭ আগস্ট ২০০৭: বিচারপতি তাফাজ্জাল ইসলাম, বিচারপতি জয়নাল আবেদীন ও বিচারপতি মো. হাসান আমিনের আপিল বিভাগের বেঞ্চ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার লিভ টু আপিলের ওপর শুনানি গ্রহণ শুরু করেন।
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৭: আপিল বিভাগ ২৫ কার্যদিবস শুনানি গ্রহণ করে মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ (লিভ মঞ্জুর) করেন।
৩০ অক্টোবর, ২০০৭: পেপারবুক তৈরি করে জমা দিতে আসামি পক্ষের শেষ সময়। তারা পেপারবুক ও যুক্তির সংক্ষিপ্তসার আদালতে জমা দেন।
২৩ আগস্ট, ২০০৯: রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তির সংক্ষিপ্তসার আপিল বিভাগে জমা দেয়া হয়।
২৪ আগস্ট, ২০০৯: আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আপিল শুনানির জন্য ৫ অক্টোবর তারিখ ধার্য করে দেন।
৪ অক্টোবর, ২০০৯: মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতিকে নিয়ে একটি বেঞ্চ গঠন করা হয়।
৫ অক্টোবর, ২০০৯: আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে চূড়ান্ত আপিল শুনানি শুরু হয়।
১২ নভেম্বর, ২০০৯: আপিলের ওপর টানা ২৯ দিন শুনানি শেষে ১৯ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়।

সাজিদ